Latest From My Blog

রক্ষীবাহিনীর সত্য-মিথ্যা

রক্ষীবাহিনীর সত্য-মিথ্যা
লেখক - আনোয়ার উল আলম শহীদ
সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের প্রথম দিকে সরকার মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গঠন করেছিল জাতীয় রক্ষীবাহিনী। এ বাহিনীর কাজ ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করা। রক্ষীবাহিনী এসব জাতীয় দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কিন্তু এর কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এসবের কতটা সত্য আর কতটা নিছক প্রচারণা? গ্রন্থের লেখক আনোয়ার উল আলম গঠন-প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত এই বাহিনীর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। রক্ষীবাহিনীর নিয়ে যেসব প্রশ্ন ও বির্তক রয়েছেম তিনি সেসব নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ বই আমাদের ইতিহাসের উত্থান-পতনময় কালপর্বের তাৎপর্যপূর্ণ দলিলবিশেষ। 
সূচিপত্র 
  1. পটভূমি
  2. জাতীয় রক্ষীবাহিনী গঠন
  3. আইনশৃঙ্খলা সমস্যা
  4. রক্ষীবাহিনী নিয়ে বিতর্ক
  5. সিরাজ সিকদার ও অন্যান্য প্রসঙ্গ
  6. বাকশাল গঠন
  7. কলঙ্কজনক অধ্যায়
  8. ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ নভেম্বর
  9. শেষ কথা

পরিশিষ্ট
  1. জাতীয় মিলিশিয়া সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের ঘোষণা
  2. রক্ষীবাহিনী গঠন-সম্পর্কিত গেজেট ও সংশোধনী
  3. রক্ষীবাহিনী প্রধানকে লেখা এম এ জি ওসমানীর চিঠি
  4. রক্ষীবাহিনীর দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ উপলক্ষে প্রকাশিত স্যুভেনিরের মুখবন্ধ
  5. ১৯৭২-৭৫ সালে আওয়ামী লীগের যাঁরা নিহত হয়েছেন
  6. থানা-পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, লুট ও রক্ষীবাহিনীর ওপর আক্রমণ
  7. রক্ষীবাহিনীর চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ উপলক্ষে প্রকাশিত স্যুভেনিরের মুখবন্ধ
  8. রক্ষীবাহিনীর কর্মকর্তা
  9. কে এম সফিউল্লাহর সাকআসৎকার
  10. রক্ষীবাহিনীর বিলুপ্তি ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে আত্তীকরণ-সংক্রান্ত গেজেট
  11. সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি

আমারও একটা প্রেমকাহিনি আছে

আমারও একটা প্রেমকাহিনি আছে
লেখক - আনিসুল হক
প্রচ্ছদ: মাসুক হেলাল
প্রকাশক - প্রথমা প্রকাশন

এযাবৎ আনিসুল হকের তিনটি উপন্যাস আমি পড়েছি—মা, না-মানুষি জমিন ও আমারও একটা প্রেমকাহিনি আছে৷ যতদূর জানি, গ্যব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস হকের একজন প্রিয় লেখক৷ তাই কি তাঁর আমারও একটা প্রেমকাহিনি আছে উপন্যাসে ‘মার্কেসীয় ঢং’-এর আঁচড় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে? উপন্যাসে চরিত্র হিসেবে লেখকের সক্রিয় উপস্থিতি আমাকে মার্কেসের নানা উপন্যাস ও ছোটগল্পের কথা মনে করিয়ে দেয়৷ শুরুতেই দেখা যায়, লেখক প্লট খুঁজছেন৷ তিনি ‘ভিজিটিং রাইটার’ হিসেবে এক মাসের জন্য গেছেন আমেরিকার ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ সেখানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইভা নামের এক মেয়ে নিজের প্রেমকাহিনি শোনায় তাঁকে৷ ইভার প্রেমিকের নাম শুভ৷ সে ইভার বাবার বন্ধুর ছেলে৷ বাল্যকালে তাদের ঘনিষ্ঠতা দেখে দুই পরিবারই পরিণত বয়সে তাদের বিয়ে দেবে বলে ঠিক করে রাখে৷ এভাবেই এগোতে থাকে গল্প৷ দুই. ইভা চারুকলায় পড়েছে৷ শুভ ভারতের আইআইটি থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছে৷ পরিণত বয়সে ইভা ও শুভ সত্যি সত্যি একে অপরের প্রেমে জড়িয়ে পড়ে৷ ইভার বলা গল্প লেখক আগ্রহভরে শুনতে থাকেন৷ লেখক এ প্রসঙ্গে কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘মানুষের ভালোবাসা মানুষেরই কাছে দামি৷’ ইভা জানায়, তাদের প্রেমে দেহ ও মন উভয়েরই মিলন হয়েছে৷ একদিন প্রেমাসক্ত ইভা ও শুভ একে অপরকে দেহ-মন উজাড় করে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে৷ ঘুম থেকে উঠে শুভ বাথরুমে যায়৷ হঠাৎ তার মুঠোফোনে একটি মেসেজ আসে৷ ইভা কোনো রকম উদ্দেশ্য ছাড়া এমনিতেই মেসেজটি দেখে৷ ঘটনাটি এ রকম: শুভ ফেসবুকে একটি মেয়ের সঙ্গে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলে৷ বলতে গেলে ভার্চুয়ালি ওই মেয়ের প্রেমে পড়ে যায় সে৷ এদিকে শুভর ফেসবুক ইনবক্সে ঢুকে কথাগুলো পড়ার পর ইভার নিষ্পাপ ভালোবাসা যায় দুমড়ে-মুচড়ে৷ একপর্যায়ে শুভর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ইভা৷ এ ঘটনার পরপরই সে চলে যায় আমেরিকা, একটা ওয়ার্কশপে যোগ দিতে৷ সেখানে ঠিক শুভর মতো দেখতে সুদীপ নামের এক নেপালি ছেলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়৷ মজার ব্যাপার হলো, ইভা লেখককে একই সঙ্গে দুটি গল্প শোনাচ্ছে৷ একবার সুদীপের কথা বলছে তো আরেকবার শুভর সঙ্গে কাটানো দিনগুলোর বর্ণনা দিচ্ছে৷ যা হোক, ইভা সুদীপের মধ্যে শুভকে খুঁজে বেড়ায়৷ আর সুদীপ ইভাকে বোঝায় যে ইভা মূলত সুদীপকে ভালোবাসার মধ্য দিয়ে প্রকারান্তরে শুভকেই ভালোবাসে৷ তবে কি এখন ইভা ফিরে যাবে শুভর কাছে? ফিরে গেলে কি শুভর হারানো ভালোবাসা পাবে সে? তিন. এবার এ উপন্যাসের যে বিষয়গুলো আনিসুল হককে বিশিষ্টতা দিয়েছে, সেসব নিয়ে একটু বলি৷ উপন্যাসের প্রতিটি অধ্যায়ের শুরু লেখকের কোনো না কোনো প্রিয় কবির কবিতার কয়েক পঙ্ক্তি দিয়ে৷ ধারাটি সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যে বিরল৷ ‘ইভার কথা’ শিরোনামে লেখক ইভা নামের মেয়েটির প্রেমকাহিনি শুনছেন৷ আবার ‘আমার কথা’ শিরোনামে গল্প নিয়ে তাঁর নিজের ভাবনা, অনুভূতির কথা জানাচ্ছেন লেখক৷ বাংলা সাহিত্যে গল্প বলার যে ঐতিহ্য রয়েছে, এ উপন্যাসে লেখক মনে হয় সেই ঐতিহ্যের প্রতি বিশ্বস্ত থেকেছেন৷ উত্তরাধুনিক উপন্যাসের একটি অন্যতম উপাদান হাস্যরস কিংবা হিউমার৷ আনিসুল হকের উপন্যাসটিতে তা যথেষ্টই আছে৷ লেখক নিজেই যখন কোনো উপন্যাস বা গল্পের সক্রিয় চরিত্র হয়ে থাকেন, তখন এর আমেজটা ভিন্ন হয় এবং আমি-আপনি সবাই লেখকের নিজ ভুবনের বাসিন্দা হয়ে যাই৷ এ ক্ষেত্রে মার্কেস ও হকের মধ্যে চমৎকার এক সাযুজ্য আছে৷ আমারও একটা প্রেমকাহিনি আছে-তে আনিসুল হক যে গল্প আমাদের শুনিয়েছেন, তা সরলরৈখিক নয়৷ এটি প্রাপ্তমনস্কের একটি সংবেদী গল্প, যার শুরুটা স্পষ্ট, শেষটা ধূসর৷

সেলাই

সেলাই - আনিসুল হক

একটা মানুষ সকালে কাজে গেল। একটা নারী অপেক্ষা করছে সন্তান জন্ম দেবার জন্য। তার স্বামী ফেরে না। একটা নারীর স্বামী ফিরে আসে, কিন্তু ক্ষতিপূরণের টাকা যে তারা নিয়ে ফেলেছে। ২০১৪ বই মেলায় প্রকাশিত আনিসুল হক এর নতুন উপন্যাস। 

বিক্ষোভের দিনগুলিতে প্রেম

বিক্ষোভের দিনগুলিতে প্রেম - আনিসুল হক
২০১৫ সালের বাঙলা একাডেমি আয়োজিত একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের ‘বিক্ষোভের দিনগুলিতে প্রেম’। বইটি প্রকাশ করেছে প্রথমা। প্রচ্ছদ এঁকেছেন মাসুক হেলাল। বইটি সম্পর্কে আনিসুল হক বলেন, আশির দশক ও ১৯৯০ সালটা আমাদের কেটেছে স্বৈরাচার বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ওই সময় আমরা যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিংবা ঢাকা মেডিকাল কলেজে কিংবা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি, তাদের দিন কেটেছে মিছিলে মিছিলে, আর ৪ বছরের কোর্স শেষ হতে সময় লেগেছে কমবেশি ৭ বছর। ওই সময়ে ৩২ পৃষ্ঠার ম্যাগাজিন বেরুত, প্রধানত সরকার-বিরোধী খবর ও মত প্রকাশের জন্য। জাতীয় কবিতা উৎসব শুরু হলো। নূর হোসেন বুকে পিঠে স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক স্লোগান লিখে শহীদ হলেন। রাউফুন বসুনিয়া শহীদ হয়েছেন সরকারি ছাত্রগুণ্ডাদের গুলিতে। নব্বইয়ে এসে একই ভাবে শহীদ হলেন ডা. মিলন। ক্যাম্পাসে আন্দোলন চলছে। শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করছে। শিক্ষার্থীরা প্রেম করছে। শিক্ষার্থীরা কবিতা লিখছে। এবং একদিন সবাই এসে মিলিত হলো রাজপথের মোহনায়, যখন কারফিউ ভাঙা মিছিল পতন ঘটাল এরশাদের। সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে একটা উপন্যাস লিখেছি ‘বিক্ষোভের দিনগুলিতে প্রেম’।

ভালোবাসো, বাঁচো

ভালোবাসো, বাঁচো - আনিসুল হক

লেখকের সবচেয়ে প্রিয় উপন্যাস ভালোবাসো বাঁচো। এই উপন্যাস সম্পর্কে তিনি বলেন, “খুবই ইমোশনাল, খুবই সেন্টিমেন্টাল, ওইটা আমার খুবই প্রিয় বই। আমি লিখি আর কাঁদি।”

অন্ধকারের একশ বছর

অন্ধকারের একশ বছর - আনিসুল হক

অদ্ভুত এক অন্ধকার নেমে এসেছে এই জনপদে। এখানে গান গাওয়া নিষদ্ধ, প্রাণীর ছবি আঁকাও অপরাধ। জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রচারণা তো দূরের কথা। সেই অন্ধকার জনপদে এক শিল্পী দম্পতির দুঃখ-দুর্দশার নিয়ে এই উপাখ্যানের শুরু হলেও ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয়েছে আরো বড় প্রেক্ষাপটে, সাম্প্রদায়িকতার শত শত বছরের ইতিহাসের পাঠ থেকে নির্দেশ করা হয়েছে এর ভয়াবহতম পরিণতি। অন্ধকারের একশ বছরকে বলা যেতে পারে এই উপমহাদেশের ক্রমপ্রসারমান এক অন্ধকার শক্তির একশ বছর।কিংবা এ সবের কিছুই নয়, এক কল্পনাপ্রতিভাবান লেখকের রচিত রাজনৈতিক কল্পকাহিনী মাত্র। কেউ কেউ এটিকে আখ্যায়িত করেছেন ভবিষ্যবাদী উপন্যাস বলে। যাই হোক না কেন, এ রকম উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে যে সম্পূর্ণ অভিনব, সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী, সন্দেহ নেই।

মা

মা
আনিসুল হক

আনিসুল হকের মা উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের সত্য ঘটনা নিয়ে লেখা। বাংলা ভাষার পাশাপাশি বইটি দিল্লী থেকে ইংরেজি ভাষায় এবং ভুবনেশ্বর থেকে উড়ে ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে। মা উপন্যাসের স্প্যানিশ অনুবাদ করেন AHS Mohammad, এর স্প্যানিশ নাম "লা মাদ্রএ", এই অনুবাদটি প্রকাশিত হয় ২১মে ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস মুক্তধারা আয়োজিত আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসবে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি সংস্করণ প্রকাশ বইটির জনপ্রিয়তার প্রমাণ করে।
উপন্যাসের কাহিনী মুক্তিযোদ্ধা মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদ এবং তাঁর মায়ের জীবন নিয়ে। শহীদ আজাদের মা সাফিয়া বেগম ছিলেন ঢাকার সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের স্ত্রী। তিনি ছিলেন আত্মমর্যাদাবান। তাই তার স্বামী যখন দ্বিতীয় বিবাহ করলেন, তখন তিনি তা মেনে নেননি। ছোট্ট আজাদকে নিয়ে শত বিলাসিতা আর প্রাচুর্যের ঘেরাটোপ পেরিয়ে নেমে এসেছিলেন নিজের গড়া যুদ্ধক্ষেত্রে। সেই যুদ্ধের তিনি ছিলেন সফল যোদ্ধা। অভাব অনটনকে পেছনে ফেলে নিজ হাতে তিনি মানুষের মত মানুষ করে তুলেছিলেন আজাদকে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে আজাদ তাঁর বন্ধুদের সাথে যোগ দেয়। ঢাকায় ক্র্যাক প্লাটুনের দলে তিনি ছিলেন। এই গেরিলা দলটি তৎকালীন সময়ে “হিট এন্ড রান" পদ্ধতিতে অসংখ্য আক্রমণ পরিচালনা করে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর মধ্যে ব্যাপক ত্রাসের সঞ্চার করে। ১৯৭১ সালের ২৯ আগস্ট পাকিস্তানি বাহিনী রেইড চালিয়ে ক্র্যাক প্লাটুন এবং সংশ্লিষ্ট অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ধরে নিয়ে যায়। আজাদের বাড়িতেও রেইড হয়, আজাদ তাঁর সহযোদ্ধাদের সাথে ধরা পড়েন। পাকিস্তানিরা তাদের নির্মমভাবে নির্যাতন করে তথ্য জানতে চায়। প্রচণ্ড অত্যাচারের মাঝেও তারা আজাদের মুখ থেকে কিছু বের করতে পারে না। তখন তার মাকে বলা হয়, ছেলে যদি সবার নাম-ধাম ইত্যাদি বলে দেয়, তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। আজাদের মা ছেলেকে বলেন কিছুই না বলতে। আজাদ বলে, মা দুদিন ভাত খাই না, ভাত নিয়ে এসো। মা পরের দিন ভাত নিয়ে হাজির হন বন্দিশিবিরে, কিন্তু ছেলের দেখা মেলে না। আজাদের মা আর কোনোদিনও জীবনে ভাত খাননি। যুদ্ধের ১৪ বছর পরে মা মারা যান, নিঃস্ব, রিক্ত-বেশে। মুক্তিযোদ্ধারা তাঁকে কবরে শায়িত করলে আকাশ থেকে ঝিরঝির করে ঝরতে থাকে বৃষ্টি। বইটির ইবুক তৈরি করেছেন, আমার বইয়ের অন্যতম এডমিন, শিশুকিশোর ডট অর্গ-এর এডমিন শিশির শুভ্র

আমার স্বামী ওয়ালী

আমার স্বামী ওয়ালী
আন মারি ওয়ালীউল্লাহ

লালসালু উপন্যাসের লেখক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ। সকল পাঠক, সমালোচক একবাক্যে স্বীকার করবেন যে, তিনি ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের এক স্তম্ভপ্রতিম কথাশিল্পী। কল্লোল যুগের ধারাবাহিকতায় তাঁর আবির্ভাব হলেও তিনি ইউরোপীয় আধুনিকতায় পরিশ্রুত নতুন সাহিত্য বলয়ের শিলান্যাস করেন। জগদীশ গুপ্ত, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখের উত্তরসূরি এই কথাসাহিত্যিক অগ্রজদের কাছ থেকে পাঠ গ্রহণ করলেও বিষয়, কাঠামো ও ভাষা-ভঙ্গীতে নতুন এক ঘরানার জন্ম দিয়েছেন।
তাঁর জন্ম চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর এলাকায়, ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ আগস্ট। তাঁর পিতা সৈয়দ আহমাদুল্লাহ ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তা; মা নাসিম আরা খাতুনও সমতুল্য উচ্চশিক্ষিত ও রুচিশীল পরিবার থেকে এসেছিলেন, সম্ভবত অধিক বনেদি বংশের নারী ছিলেন তিনি। ওয়ালীউল্লাহর আট বছর বয়সের সময় তার মাতৃবিয়োগ ঘটে। দুই বছর পর তার বাবা দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন টাঙ্গাইলের করটিয়ায়। বিমাতা এবং বৈমাত্রেয় দুই ভাই ও তিন বোনের সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহর সম্পর্ক কখনোই অবনতি হয় নি। তার তেইশ বছর বয়সকালে কোলকাতায় চিকিৎসা করতে গিয়ে মারা যান। তার পিতৃমাতৃবংশ অনেক শিক্ষিত ছিলেন। বাবা এম এ পাশ করে সরাসরি ডেপুটি মেজিস্ট্রেট চাকুরিতে ঢুকে যান; মাতামহ ছিলেন কোলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স থেকে পাশ করা আইনের স্নাতক; বড়ো মামা এমএবিএল পাশ করে কর্মজীবনে কৃতি হয়ে খানবাহাদুর উপাধি পেয়েছিলেন এবং স্ত্রী ওয়ালীউল্লাহর বড়ো মামী ছিলেন নওয়াব আবদুল লতিফ পরিবারের মেয়ে, উর্দু ভাষার লেখিকা ও রবীন্দ্রনাথের গল্প নাটকের উর্দু অনুবাদক।
পারিবারিক পরিমণ্ডলের সাংস্কৃতিক আবহাওয়া সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর মনন ও রুচিতে প্রভাব ফেলেছিলো। পিতার বদলির চাকরির সুবাদে ওয়ালীউল্লাহ পূর্ব বাংলার বিভিন্ন অংশ দেখার সুযোগ লাভ করেন। ওয়ালীউল্লাহর শিক্ষাজীবন কেটেছে দেশের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে। ১৯৩৯ সালে তিনি কুড়িগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় হতে ম্যাট্রিক এবং ১৯৪১ সালে ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। তার আনুষ্ঠানিক ডিগ্রি ছিলো ডিস্টিঙ্কশনসহ বিএ এবং অর্থনীতি নিয়ে এমএ ক্লাশে ভর্তি হয়েও শেষে পরিত্যাগ করেন। ছাত্রজীবনে তিনি একাধিক মাসিকপত্রে লেখালেখির সাথে জড়িত ছিলেন।
ছাত্র অবস্থাতেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। বাধ্য হয়ে নয়, স্বেচ্ছায়। তার জ্যেষ্ঠভ্রাতা সৈয়দ নসরুল্লাহ এমএ ও বিএ পাশ করেছিলেন। তার পক্ষেও খুব স্বাভাবিক ছিল এমএ পড়াটা কিন্তু হয় নি। ১৯৪৮ সালে তিনি ইংরেজি দৈনিক দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকায় চাকুরি নেন। এ বছর তার পিতাও প্রয়াত হন (২৬ জুন)। তার তিনমাস আগে, মার্চ মাসে, তার প্রথম গ্রন্থ নয়নচারা গল্পগ্রন্থ বের হয়। নিয়মিত লেখালেখি শুরু করেছিলেন ১৯৪১-৪২ সাল নাগাদ। এমন মনে করার সঙ্গত কারণ আছে যে, তিনি ভবিষ্যতে লেখকবৃত্তি বেছে নিতে চেয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পরই তিনি দ্য স্টেটসম্যানের চাকুরি ছেড়ে দিয়ে ঢাকা চলে আসেন এবং সেপ্টেম্বরে রেডিও পাকিস্তানের ঢাকা কেন্দ্রের সহকারী বার্তা-সম্পাদকের চাকুরি নেন। কাজের ভার কম ছিলো, লালসালু উপন্যাস লেখায় হাত দিলেন নিমতলীর বাসায়। পরের বছরই এ উপন্যাস গ্রন্থাকারে প্রকাশ করে কমরেড পাবলিসার্স। ঢাকা থেকেই বের হলো। করাচি কেন্দ্রের বার্তা সম্পাদক হয়ে ঢাকা ছাড়েন ১৯৪৮ সালে। সেখান থেকে নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান দূতাবাসে তৃতীয় সেক্রেটারির পদমর্যাদায় প্রেস-আতাশে হয়ে যান ১৯৫১ তে। অতঃপর একই পদে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বদলি ১৯৫২ এর শেষের দিকে। ১৯৫৪ সালে ঢাকায় ফিরে এলেন তথ্য অফিসার হিসেবে ঢাকাস্থ আঞ্চলিক তথ্য-অফিসে। ১৯৫৫ সালে পুনরায় বদলি করাচির তথ্য মন্ত্রণালয়। এরপর ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার তথ্য পরিচালকের পদাভিষিক্ত হয়ে, ১৯৫৬ সালের জানুয়ারিতে, দেড় বছর পর পদটি বিলুপ্ত হয়ে গেলে জাকার্তার পাকিস্তানি দূতাবাসে দ্বিতীয় সেক্রেটারির পদমর্যাদায় প্রেস-আতাশে হয়ে রয়ে গেলেন ১৯৫৮ এর ডিসেম্বর অবধি। এরপর ক্রমান্বয়ে করাচি-লন্ডন-বন, বিভিন্ন পদে ও বিভিন্ন মেয়াদে। ১৯৬১ সালের এপ্রিলে ফার্স্ট সেক্রেটারির পদমর্যাদায় প্রেস-আতাশে হিসেবে যোগ দিলেন পারীর দূতাবাসে। একনাগাড়ে ছ'বছর ছিলেন তিনি এ শহরে। এরই মধ্যে প্রকাশিত হয়েছিলো লালসালুর ফরাসি অনুবাদ লারব্র্ সা রাসিন (L'arbre sans racines, অর্থাৎ শিকড়হীন গাছ)। দূতাবাসের চাকুরি ছেড়ে চুক্তিভিত্তিক প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট পদে যোগ দেন ইউনেস্কোতে, ১৯৬৭ সালের ৮ আগস্ট, চাকুরিস্থল ছিলো প্যারিস শহরেই, ইউনেস্কো সদরদপ্তরে। ১৯৭০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ইউনেস্কোতে তার চাকুরির মেয়াদ শেষ হয়েছিলো। অবসরগ্রহণের নিয়ম হিসাবে পাকিস্তান সরকার ইসলামাবাদে বদলি করে কিন্তু তিনি প্যারিসেই থেকে গিয়েছিলেন।
পাকিস্তান সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তরের সাথে জড়িত থাকার সূত্রে কর্মজীবনের বড় একটা সময় তিনি বিদেশে কাটান। ১৯৫৫ সালে তিনি এক ফরাসি নারীর সাথে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন। তাঁর নাম আন্-মারি লুই রোজিতা মার্সেল তিবো। তাদের আলাপ হয়েছিলো সিডনিতে। ওয়ালীউল্লাহ যেমন পাকিস্তানি দূতাবাসে, আন্-মারি তেমনি ছিলেন ফরাসি দূতাবাসে। দেড়-দু বছরের সখ্য ও ঘনিষ্টতা রূপান্তরিত হয় পরিণয় বন্ধনে। ওয়ালীউল্লাহ তখন করাচিতে। সেখানেই ১৯৫৫ সালের ৩ অক্টোবর তাদের বিয়ে হয়। ধর্মান্তরিতা বিদেশিনীর নাম হয় আজিজা মোসাম্মত নাসরিন। নবলব্ধ নামকে বিয়ের কাবিননামাতেই বিসর্জন দিয়েছিলেন দু-জনে। তাদের দু'সন্তান। প্রথমে কন্যা সিমিন ওয়ালীউল্লাহ, তার পরে পুত্র ইরাজ ওয়ালীউল্লাহ।
অত্যন্ত অকালে প্রয়াত হন সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ। মাত্র ৪৯ বছর বয়সে, ১৯৭১ সালের ১০ অক্টোবর ফ্রান্সের প্যারিসে তাঁর মৃত্যু হয়, গভীর রাতে অধ্যয়নরত অবস্থায় মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের ফলে তার মৃত্যু হয়। পারী'র উপকণ্ঠে তারা একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন, সেখানেই ঘটনাটি ঘটে এবং ওখানেই সমাহিত করা হয় তাকে।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রাজনীতিসম্পৃক্ত মানুষ ছিলেন না, কিন্তু সমাজ ও রাজনীতিসচেতন ছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি চাকরিহীন, বেকার। তা সত্ত্বেও বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষে জনমত তৈরির চেষ্টা করেছেন, সঙ্গতিতে যতোটুকু কুলোয় তদানুযায়ী টাকা পাঠিয়েছেন কোলকাতায় মুক্তিযুদ্ধ তহবিলে। তার সন্তানদের ধারণা, তাদের পিতার অকাল মৃত্যুর একটি কারণ দেশ নিয়ে দুশ্চিন্তা, আশঙ্কা ও হতাশা। তিনি যে স্বাধীন মাতৃভূমি দেখে যেতে পারেন নি সে বেদনা তার ঘনিষ্ঠ মহলের সকলেই বোধ করেছেন। তার ছাত্রজীবনের বন্ধু পরবর্তীতে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, আবু সাঈদ চৌধুরী ওয়ালীউল্লাহ'র মৃত্যুর সাত মাস পরে তার স্ত্রীকে এক আধা সরকারি সান্ত্বনাবার্তা পাঠিয়েছেন। তাতে লেখা ছিল,
আমাদের দুর্ভাগ্য যে, মি. ওয়ালীউল্লাহর মাপের প্রতিভার সেবা গ্রহণ থেকে এক মুক্ত বাংলাদেশ বঞ্চিত হলো; আমাকে এটুকু বলার সুযোগ দিন যে আপনার ব্যক্তিগত ক্ষতি বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ক্ষতি।
বাঙালি পাঠক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহকে কথাশিল্পী হিসেবেই চিনেন, তাঁর সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষণ করেন। কিন্তু ব্যক্তি ওয়ালীউল্লাহ সম্পর্কে আমরা খুব কমই জানি। 'আমার স্বামী ওয়ালী' গ্রন্থে তাঁর স্ত্রী আন মারি ওয়ালীউল্লাহ তাঁর সম্পর্কে খুব অন্তরঙ্গ একটি ছবি এঁকেছেন। ওয়ালীউল্লাহর ব্যক্তি জীবন, তাঁর রুচি, পাঠপরিধি, তাঁর চিত্রকর হওয়ার আকাঙ্ক্ষা, সর্বোপরি তাঁর সংবেদনশীল মন সম্পর্কে এক পরিষ্কার ধারণা দেয় এই বই। ওয়ালীউল্লাহ বিশ্বের সব সাহিত্যকে মানুষের অভিন্ন উত্তরাধিকার বলে গন্য করতেন। বইটি পড়তে পড়তে শেষ পর্যন্ত ওয়ালীউল্লাহ সম্পর্কে তাঁর নিজের এ কথাই সত্য বলে মনে হবে,
আমি একজন মুক্ত মানুষ। জগৎ আমাকে গ্রহণ করুক আর নাই করুক, পুরো জগতটিই আমার।
তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া ও আলোচিত গ্রন্থ

একজন দালালের স্বীকারোক্তি

একজন দালালের স্বীকারোক্তি
লেখক - আজিজুল হক

'দালাল' 'দালাল' শুনতে শুনতে ভাবতে লাগলাম মানুষ জানুক না এক 'দালাল' এর কথা, যে দালাল টাকার জন্য কোন ব্যাক্তি বা গোষ্ঠি বা দলের নয়, দালালি করে গেল একটা মতাদর্শ, একটা দর্শন, একটা রাজনীতির। 'পরিবর্তনে'র নামে দেশটাকে বিক্রি করতে উদ্যত কতগুলো জগত শেঠ, উর্মিচাদ, মিরজাফররা। সেখান থেকে টাকা কামাতে উদ্যত কতগুলো বুদ্ধিজীবী নামক বৃহন্নলা, তারা নাটক, গান, চলচ্চিত্র নিয়ে বাজারে নেমেছে। সৃজনের নামে লাম্পট্য চালিয়ে যাচ্ছে, তার লাম্পট্য গ্রামাঞ্চলে জমিদার নামক মানুষখেকোগুলো সংবিধান সিদ্ধ হয়ে উঠে পড়ে লেগেছে কৃষক উচ্ছেদে। খুনি পুলিশ অফিসারগুলো জোট বেঁধেছে...প্রশ্ন হলো একটাইঃ দালাল হবে, নাকি মিরজাফর হবে। উচ্ছেদ হওয়া কৃষকের হয়ে দালালি করবে নাকি জোতদারদের খতম না করে, খুনি পুলিশ কর্মকর্তাদের শেষ না করে হার্মাদ নামে সি পি এক বিরোধিতার নামে কৃষক উচ্ছেদে মদতকারী, পুঁজিবাদীকে উদ্ধার পাওয়ার রাস্তা তৈরি করবে মাওবাদের নামে, লাল না গেরুয়া অথবা সবুজ? সুমন কবীর নিজের স্বপক্ষে গান গেয়ে বেইমানি মানে জোতদারদের ফিরে আসার যুক্তি দিয়েছেন, সোজা বক্তব্যঃ Wind is knocking at the window-pan! I change my name, my faith and religion. তার দক্ষিণী জানালাতে বাতাসের গুঞ্জন, পরিবর্তন, পরিবর্ধন, তাই সে দক্ষিণী হাওয়াতে নাম, বিশ্বাস, ধর্ম পরিবর্তন করে নিল, জীর্ণ পাতার মতো ঝরে গেল। যুক্তিটাও আছে 'চোরের যুক্তি', সেটা কি? তুমিও তো পালটে গেছ! যা উদ্ধৃতি দিতে, যা বলতে, যা করতে, তুমিও সেটা নেই! মানে আমার বিশ্বাসে, মস্তিস্ক জগত সৎ থাকাটা তোমার উপর নির্ভরশীল! তার কাছে মনে হয়েছে চোরের পরিবর্তে খুনিরা শ্রেয়! চোরদের মদত দেওয়ার চেয়ে পালটে গিয়ে খুনিদের শক্তিবৃদ্ধি করে ভেতরের প্রবৃত্তি পশুর রক্ত পিপাসাটা মেটানো...তারই নাম 'পরিবর্তন'।

সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ

সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ-নিবন্ধ
ও অন্যান্য প্রসঙ্গ
লেখক - আজহার ইসলাম

লেখকের একটি বই আগেও ভাগাভাগি করেছি সদস্যবন্ধুদের সাথে। তাঁর বইগুলো সারাধণত সাহিত্যে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রী, প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী, সাহিত্যের গবেষক বা যাঁরা সাহিত্য বিষয়ে আগ্রহী তাঁদের বেশ সাহায্য করবে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। সেই চেষ্টায়ই আমার এমন বই ভাগাভাগি। এখন বই সম্পর্ক লেখকের নিজ বক্তব্য: ‘সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ’ পুস্তকখানি মূলত বাংলা সাহিত্যের কয়েকটি বিষয় ও স্মরণীয় কিছু কথা নিয়ে রচিত। এসব প্রবন্ধ-নিবন্ধের অধিকাংশই বিভিন্ন সময়ে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে একাডেমির সেমিনার-কক্ষে পাঠ করা হয়। পরে সেগুলি বিভিন্ন গবেষণামূলক ও দৈনিক পত্রপত্রিকার সাহিত্যের পাতায় এবং কোনো কোনো সংকলন-গ্রন্থে প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশের সাহিত্যের উপর রচিত সর্বশেষ ইংরেজি প্রবন্ধখানি ১৯৯৭ সালের ৪ঠা জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে বাঙালি অভিবাসীদের আয়োজিত একটি কনফারেন্সে একজন আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থাপন করি।
+